দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ছেলেকে সৌদি আরব পাঠানোর প্রস্তুতি শেষ। ধারদেনা করে জোগাড় করা হয়েছিল ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সেই ছেলেকে ঢাকায় বিমানে তুলে দিতে পরিবারের সঙ্গে রওনা দিয়েছিলেন মোছা. জয়বাহার (৪৫)। তবে ঢাকায় পৌঁছানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি। আহত হয়েছেন তার স্বামী রাশিদ মিয়া ও ছেলে নিরব।
সোমবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাকুন্দিয়া উপজেলার পুলেরঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জয়বাহার ইটনা উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্বগ্রাম শান্তিপুর গ্রামের রাশিদ মিয়ার স্ত্রী।
পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে সৌদি আরবগামী ছেলে নিরবকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন পরিবারের সদস্যরা। পুলেরঘাট এলাকায় তাদের বহনকারী গাড়ির সঙ্গে একটি পণ্যবাহী লরির সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন আহত হন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জয়বাহারের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল। পথে নরসিংদীর ইটেরখোলা এলাকায় গাড়িতেই তাঁর মৃত্যু হয়।
জয়বাহারের ভাতিজা আল আমিন বলেন, শুক্রবার নিরবের সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল। ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়ে পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছিলেন তাঁর চাচা-চাচি। দুর্ঘটনায় চাচিকে হারিয়ে পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে। তিনি দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবি জানান।
আহত নিরব অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার পর কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে তাঁরা দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাননি। এতে আহতদের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়।
রাশিদ মিয়া বলেন, “ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর জন্য ঋণ করে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা জোগাড় করেছিলাম। এখন স্ত্রীকে হারিয়ে সব শেষ হয়ে গেছে।”
পরিবার সূত্রে জানা যায়, রাশিদ মিয়া ও জয়বাহারের তিন মেয়ে ও এক ছেলে। ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়ে পরিবারের আর্থিক সংকট কাটানোর আশা ছিল তাঁদের।
কটিয়াদী হাইওয়ে থানার এসআই মোহাম্মদ নবীনুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পণ্যবাহী গাড়িটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
যে আই